![]() |
বসন্ত নয় অবহেলা । দর্পন কবির । |
বসন্ত নয় অবহেলা
বসন্ত নয় অবহেলা
দর্পন কবির
বসন্ত নয় আমার দরজায প্রথম কড়া নেড়েছিল অবহেলা ।
ভেবেছিলাম , অনেকগুলো বর্ষা শেষে
শরতের উষ্ণতা মিশিয়ে এলো বুঝি বসন্ত !
দরজা খুলে দেখি আমাকে ভালোবেসে এসেছে অবহেলা ।
মধ্য দুপুরের তির্ষক রোদের মত অনেকটা নির্লজ্জভাবে
আমাকে আলিঙ্গন করে নিয়েছিলো অনাকাঙ্ক্ষিত অবহেলা ।
আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখেছিলাম আমার দীনদশায় কারো করুনা বা আর্তিব পেখম ছড়িয়ে আছে কিনা !
ছিলো না ….
বৃষ্টিহীন জনপদে খড়খড়ে রোদ যেমন যেমন দস্যুর মত অদমনীয়
তেমনি অবহেলাও আমাকে আগলে রেখেছিলো নির্মোহ নিঃসঙ্কোচিত ।
আমি অবহেলাকে পিছনে ফেলে
একবার ভোঁদৌড় দিয়ে এগিয়ে গেছিলাম ।
তখন দেখি আমার সামনে কলহাস্যে দাড়িয়েছে উপেক্ষা ।
উপেক্ষার সঙ্গেও একবার
কানামাছি খেলে এগিয়ে গেছিলাম
তোমাদের কোলাহল মুখর আনন্দ সভায়।
কী মিলেছিলো ?
ঠোটঁ উলটানো ভৎসনা আর অভিশপ্ত অনূঢ়ার মত একতাল অবঙ্গা ।
তাও সয়ে গিয়েছিলো একটা সময় ।
ধরেই নিয়েছিলাম
আমার কোন কালেই হবে না রাবেন্দ্রিক প্রেম
তোমাদের জয়গানে
করতালিতে নতজানু থেকেছিলো
আমার চাপা আক্ষেপ লজ্জা
বুঝে গিয়েছিলাম
জীবনান্দময় স্বপ্ন আমাকে ছোঁবে না।
জয়নুলের রঙ নিয়ে কল্পনার বেসাতি
হারানো দিনের গানের ঐন্দ্রালিক তন্ময়তা ।
বা ফুল ,পাখি নদীর কাব্যলাপে
কারা মশগুল হলো , এ নিয়ে কৌতূহল দেখাবার দুঃসাহস
আমি দেখাইনি কখনো ।
এত কিছু জেনেও
নজরুলের মত বিদ্রোহী হবো !
সেই অমিত শক্তিও আমার ছিলো না ।
মেনে নেয়ার বিনয়টুকু ছাড়া,
আসলে আমার কিছুই ছিলো না ।
শুধু ছিলো অবহেলা , উপেক্ষা আর অবজ্ঞা ।
হ্যা , একবার তুমি বা তোমরা যেন দয়া করে বাঁকা চোখে তাকিয়েছিলে আমার দিকে ।
তাচ্ছিল্য নয় একটু মায়াই যেন ছিল ,
হতে পারে কাঁপা আবেগও মিশ্রিত ছিল তোমার দৃষ্টিতে ।
ওইটুকুই আমার যা পাওয়া ।
আমি ঝরে যাওয়া পাতা ,
তুমি ছিলে আকষ্মিক দমকা হাওয়া ।
তারপরও অবহেলার চাদর ছাড়িয়ে উপেক্ষার দেয়াল ডিঙ্গিয়ে ও অবহেলার লাল দাগ মুছে জীবনের কোন সীমারেখা ভাঙ্গতে পারিনি আমি ।
একথা জানে শুধু অন্তর্যামী ।
অনেক স্বপ্নপ্রবন হয়ে একবার ভেবেছিলাম
এই অবহেলা তুষারপাতের মুখচ্ছবি
উপেক্ষা কাঁচের দেয়াল , অবজ্ঞা কুচকুচে অন্ধকার ।
এর কিছুই থাকবেনা একটা বসন্তের ফুৎকারে ।
একটা ঝলমলে পোশাক গায়ে জড়িয়ে
হাতের মুঠোয় বসন্ত নিয়ে
অন্তত একটি সন্ধাকে উজ্জল করে নেবো ।
এমন ভাবাবেগও ছিলো
আকাশের কার্নিশে লেপ্টে থাকা পেঁজা মেঘের মত ।
ঐ মেঘ কখনো বৃষ্টি হয়ে নামেনি
তোমার বা তোমাদের নাগরিক কোলাহল কখনো থামেনি ।
অর্ধেক জীবন ফেলে এসে দেখি
অনেক কিছু বদলে গেছে । সেকি!
কোথায় হারালো কৈশোরের দিনলিপি
বিপন্ন করা অবহেলা
স্বপ্নকে অবদমনের স্বররিপিতে আটকে ফেলা
উপেক্ষা আর তারুন্যকে ম্রিয়মান করে রাখার অবজ্ঞা ।
ওরা আমাকে চোখ রাঙাতে পারে না ঠিক
তবে এখনো পোড় খাওয়া দিন বড্ড রঙিন ।
আমি আজ সমুদ্র জলে হাত রেখে বলে দিতে পারি
কোন ঢেউয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে তোমাদের অশ্রুকনা ।
আকাশ পানে তাকিয়ে বুঝতে পারি
কার দীর্ঘশ্বাসে ঝড়ে পরেছে নক্ষত্র ।
এমনকি তুমি যে সম্রাজ্ঞীর বেশের আড়ালে
মিহিন কষ্ট লেপে হয়েছো লাবন্যময় , পাষান , পাথর ।
এটাও দেখতে পাই অন্তরদৃষ্টি দিয়ে ।
আমি জানি , দীর্ঘশ্বাসে ভরা এ আখ্যান যদি পেতো কবিতার রুপ !
সেই অবহেলা হতো বসন্ত স্বরুপ।
ভেবেছিলাম , অনেকগুলো বর্ষা শেষে
শরতের উষ্ণতা মিশিয়ে এলো বুঝি বসন্ত !
দরজা খুলে দেখি আমাকে ভালোবেসে এসেছে অবহেলা ।
মধ্য দুপুরের তির্ষক রোদের মত অনেকটা নির্লজ্জভাবে
আমাকে আলিঙ্গন করে নিয়েছিলো অনাকাঙ্ক্ষিত অবহেলা ।
আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখেছিলাম আমার দীনদশায় কারো করুনা বা আর্তিব পেখম ছড়িয়ে আছে কিনা !
ছিলো না ….
বৃষ্টিহীন জনপদে খড়খড়ে রোদ যেমন যেমন দস্যুর মত অদমনীয়
তেমনি অবহেলাও আমাকে আগলে রেখেছিলো নির্মোহ নিঃসঙ্কোচিত ।
আমি অবহেলাকে পিছনে ফেলে
একবার ভোঁদৌড় দিয়ে এগিয়ে গেছিলাম ।
তখন দেখি আমার সামনে কলহাস্যে দাড়িয়েছে উপেক্ষা ।
উপেক্ষার সঙ্গেও একবার
কানামাছি খেলে এগিয়ে গেছিলাম
তোমাদের কোলাহল মুখর আনন্দ সভায়।
কী মিলেছিলো ?
ঠোটঁ উলটানো ভৎসনা আর অভিশপ্ত অনূঢ়ার মত একতাল অবঙ্গা ।
তাও সয়ে গিয়েছিলো একটা সময় ।
ধরেই নিয়েছিলাম
আমার কোন কালেই হবে না রাবেন্দ্রিক প্রেম
তোমাদের জয়গানে
করতালিতে নতজানু থেকেছিলো
আমার চাপা আক্ষেপ লজ্জা
বুঝে গিয়েছিলাম
জীবনান্দময় স্বপ্ন আমাকে ছোঁবে না।
জয়নুলের রঙ নিয়ে কল্পনার বেসাতি
হারানো দিনের গানের ঐন্দ্রালিক তন্ময়তা ।
বা ফুল ,পাখি নদীর কাব্যলাপে
কারা মশগুল হলো , এ নিয়ে কৌতূহল দেখাবার দুঃসাহস
আমি দেখাইনি কখনো ।
এত কিছু জেনেও
নজরুলের মত বিদ্রোহী হবো !
সেই অমিত শক্তিও আমার ছিলো না ।
মেনে নেয়ার বিনয়টুকু ছাড়া,
আসলে আমার কিছুই ছিলো না ।
শুধু ছিলো অবহেলা , উপেক্ষা আর অবজ্ঞা ।
হ্যা , একবার তুমি বা তোমরা যেন দয়া করে বাঁকা চোখে তাকিয়েছিলে আমার দিকে ।
তাচ্ছিল্য নয় একটু মায়াই যেন ছিল ,
হতে পারে কাঁপা আবেগও মিশ্রিত ছিল তোমার দৃষ্টিতে ।
ওইটুকুই আমার যা পাওয়া ।
আমি ঝরে যাওয়া পাতা ,
তুমি ছিলে আকষ্মিক দমকা হাওয়া ।
তারপরও অবহেলার চাদর ছাড়িয়ে উপেক্ষার দেয়াল ডিঙ্গিয়ে ও অবহেলার লাল দাগ মুছে জীবনের কোন সীমারেখা ভাঙ্গতে পারিনি আমি ।
একথা জানে শুধু অন্তর্যামী ।
অনেক স্বপ্নপ্রবন হয়ে একবার ভেবেছিলাম
এই অবহেলা তুষারপাতের মুখচ্ছবি
উপেক্ষা কাঁচের দেয়াল , অবজ্ঞা কুচকুচে অন্ধকার ।
এর কিছুই থাকবেনা একটা বসন্তের ফুৎকারে ।
একটা ঝলমলে পোশাক গায়ে জড়িয়ে
হাতের মুঠোয় বসন্ত নিয়ে
অন্তত একটি সন্ধাকে উজ্জল করে নেবো ।
এমন ভাবাবেগও ছিলো
আকাশের কার্নিশে লেপ্টে থাকা পেঁজা মেঘের মত ।
ঐ মেঘ কখনো বৃষ্টি হয়ে নামেনি
তোমার বা তোমাদের নাগরিক কোলাহল কখনো থামেনি ।
অর্ধেক জীবন ফেলে এসে দেখি
অনেক কিছু বদলে গেছে । সেকি!
কোথায় হারালো কৈশোরের দিনলিপি
বিপন্ন করা অবহেলা
স্বপ্নকে অবদমনের স্বররিপিতে আটকে ফেলা
উপেক্ষা আর তারুন্যকে ম্রিয়মান করে রাখার অবজ্ঞা ।
ওরা আমাকে চোখ রাঙাতে পারে না ঠিক
তবে এখনো পোড় খাওয়া দিন বড্ড রঙিন ।
আমি আজ সমুদ্র জলে হাত রেখে বলে দিতে পারি
কোন ঢেউয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে তোমাদের অশ্রুকনা ।
আকাশ পানে তাকিয়ে বুঝতে পারি
কার দীর্ঘশ্বাসে ঝড়ে পরেছে নক্ষত্র ।
এমনকি তুমি যে সম্রাজ্ঞীর বেশের আড়ালে
মিহিন কষ্ট লেপে হয়েছো লাবন্যময় , পাষান , পাথর ।
এটাও দেখতে পাই অন্তরদৃষ্টি দিয়ে ।
আমি জানি , দীর্ঘশ্বাসে ভরা এ আখ্যান যদি পেতো কবিতার রুপ !
সেই অবহেলা হতো বসন্ত স্বরুপ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন