করলা চাষ করে অধিক ফলন পেতে হলে সঠিক করলা চাষ পদ্ধতি জানতে হবে ।আজকে আমরা জানবো করলা চাষের সঠিক পদ্ধতি ।
আরও পড়ুন: করলার ঔষাধি গুনাগুন সম্পর্কে জানুন ?
![]() |
সঠিক করলা চাষ পদ্ধতি |
করলার জাত |
|||
ক্রমিক নং |
জাতের নাম |
ফলন (টন/ হেক্টর) |
প্রধান বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
|
০১ |
বারি হাইব্রিড করলা -২ |
৩৫-৩৮ |
|
|
০২ |
বারি হাইব্রিড করলা -৩ |
২৫-২৮ |
|
|
০৩ |
বারি করলা -৪ |
২২-২৫ |
|
|
০২ |
বারি করলা -১ |
২৫-৩০ |
|
|
০২ |
গজ করলা |
২০-২৫ |
|
জীবনকাল
জমি নির্বাচন
জমি তৈরি
মাদায় চাষের ক্ষেত্রে :
বাণিজ্যিক চাষের ক্ষেত্রে :
সারের পরিমান ও প্রয়োগ |
||||
|
সারের নাম |
মোট পরিমান (হেক্টর ) |
মোট পরিমান (শতক) |
জমি তৈরির সময় (শতক) |
রোপনের ৭-১০ দিন পূর্বে |
|---|---|---|---|---|
|
পচা গোবর |
২০ টন |
৮০ কেজি |
২০ কেজি |
৫ কেজি |
|
টিএসপি |
১৭৫ কেজি |
৭০০ গ্রাম |
৩৫০ গ্রাম |
৩০ গ্রাম |
|
ইউরিয়া |
১৭৫ কেজি |
৭০০ গ্রাম |
- |
- |
|
এমপি |
১৫০ কেজি |
৬০০ গ্রাম |
২০০ গ্রাম |
২০ গ্রাম |
|
জিপসাম |
১০০ কেজি |
৪০০ গ্রাম |
৪০০ গ্রাম |
- |
|
দস্তা সার |
১২.৫ কেজি |
৫০ গ্রাম |
৫০ গ্রাম |
- |
|
বোরাক্স |
১০ কেজি |
৪০ গ্রাম |
৪০ গ্রাম |
- |
|
ম্যাগনেসিয়াম |
১২.৫ কেজি |
৫০ গ্রাম |
- |
৫ গ্রাম |
|
সারের নাম |
রোপনের ১০-১৫ দিন পর |
রোপনের ৩০-৩৫ দিন পর |
রোপনের ৫০-৫৫ দিন পর |
মোট পরিমান (মাদা প্রতি) |
|
পচা গোবর |
- |
- |
- |
৫ কেজি |
|
টিএসপি |
- |
- |
- |
২০০ গ্রাম |
|
ইউরিয়া |
১৫ গ্রাম |
১৫ গ্রাম |
১৫ গ্রাম |
১৩০ গ্রাম |
|
এমপি |
১৫ গ্রাম |
- |
- |
১৫০ গ্রাম |
|
জিপসাম |
|
- |
- |
৯০ গ্রাম |
|
দস্তা সার |
- |
- |
- |
৫ গ্রাম |
|
বোরাক্স |
- |
- |
- |
৪ গ্রাম |
|
ম্যাগনেসিয়াম |
- |
- |
- |
৫ গ্রাম |
বীজ বপনের সময়
বীজের পরিমান :
বীজ বপন পদ্ধতি
মাদায় বীজ বপন:
পলিব্যাগে চারা তৈরি :
পরিচর্যা
১. সেচ দেয়া ও নিষ্কাশন :
- প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে । পানির অভাবে গাছের বিভিন্ন লক্ষন প্রকাশ পায় । যেমন:-
- চারার বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় ।
- পরবর্তিতে ফল ঝরে যায় ।
- ফলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় ।
- জুন জুলাই থেকে বৃষ্টি শুরু হলে আর সেচের প্রয়োজন হয় না । জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য নিকাশ নালা সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে ।
২. আগাছা ব্যবস্থাপনা :
- শুরু থেকে ফল সংগ্রহ পর্যন্ত জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে ।গাছের গোড়ায় আগাছা থাকলে আশানুরুপ ফলন পাওয়া যায় না।
- সেচের পর জমিতে চটা বাঁধলে গাছের শিকাড়াঞ্চলে বাতাস চলাচল করতে পারে না ।কাজেই সেচের পর গাছের গোড়া আলগা করে দিতে হবে।
৩. বাউনি দেওয়া :
বালাই ব্যবস্থাপনা
১. করলার মাছি পোকা
লক্ষন:
- স্ত্রী মাছি কচি ফলের নিচের দিকে ওভিপজিটর ঢুকিয়ে ডিম পারে ।
- ডিম পাড়ার স্থান থেকে পানির মত তরল পদার্থ বেড়িয়ে আসে যা শুকিয়ে বাদামী রং ধারন করে।
- ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে ফলের শাস খেতে শুরু করে এবং ফল হলুদ হয়ে পচে ঝরে যায় ।
দমন :
- আক্রান্ত ফল বা ফুল সংগ্রহ করে ধ্বংস করা বা পুরে ফেলা ।
- প্রথম ফুল আসা মাত্র ফোরোমন ফাদ স্থাপন করা ।প্রতি ১০ শতকে ৩ টি করে ।
- আম বা খেজুরের রসে সামান্য বিষ মিশিয়ে তা বোতলে রেখে জানালা কেটে দিয়ে ক্ষেতে স্থাপন করা ।
- ১০০ গ্রাম পাকা মিষ্টি কুমড়া কুচি কুচি করে কেটে তাতে সামান্য বিষ ( যেমন -সপসিন ০.২৫ গ্রাম ) মিশিয়ে বিষ টোপ তৈরি করে মাটির পাত্রে ক্ষেতে স্থাপন করা ।
- সাইপারমেথ্রিন গ্রূপের কীটনাশক ১ মিলি / লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা ।(১৫ দিন সবজি খাওয়া বা বিক্রি করা যাবে না )
২ .পামনিক বিটল
লক্ষন :
- পূর্ণাঙ্গ পোকা চারা গাছের পাতা ফুটো করে খায় ।
- কীড়া গাছের গোড়ায় মাটিতে বাস করে ।
- গাছের শিকড়ের ক্ষতি করে এবং বড় গাছ মেরে ফেলতে পারে ।
দমন :
- আক্রান্ত গাছ থেকে পোকা হাতে ধরে মেরে ফেলা ।
- চারা অবস্থায় ২০-২৫ দিন চারা মশারির জাল দিয়ে ঢেকে রাখা ।
- প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম সেভিন /কার্বারিন -৮৫ মিশিয়ে স্প্রে করা(১৫ দিন সবজি খাওয়া বা বিক্রি করা যাবে না )।
- গাছের গোড়ায় ২-৫ গ্রাম বাসুডিন/ ডায়াজিনন ১০ জি মিশিয়ে সেচ দেয়া।
৩. ভাইরাসজনিত মোজাইক রোগ
লক্ষন:
- গাছে হলুদ ও গাঢ় সবুজ ছোপ ছোপ মোজাইক করা পাতা দেখা যায় ।
দমন :
- রোগ মুক্ত বীজ বপন করা ।
- সুষম সার ব্যবহার করা ।
- ক্ষেত থেকে আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা ।
- জাব পোকা ও সাদা মাছি এ রোগের বাহক ,তাই এদের দমনের জন্য ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্রূপের কীটনাশক যেমন : এডমায়ার ১ মিলি / লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা (১৫ দিন সবজি খাওয়া বা বিক্রি করা যাবে না )।
৪. পাউডারী মিলডিউ
লক্ষন :
- পাতার উভয় পাশে প্রথমে সাদা সাদা পাউডার বা গুড়া দেখা যায় ।
- ধীরে ধীরে এ দাগ গুলো বড় ও বাদামি হয়ে শুকিয়ে যায় ।
দমন:
- আক্রান্ত পাতা ও গাছ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলা ।
- প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম থিওভিট বা সালফেলাক্স /কুমুলাস অথবা ১০ গ্রাম ক্যালিনিক্স ১৫ দিন পর পর স্প্রে করে া েরোগ নিয়ন্ত্রন করা যায় ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন