মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

আদর্শ গোলাপ চাষের পদ্ধতি..নওরোজ।

গোলাপকে ফুলের রানী বলা হয় । বাংলাদেশে বানিজ্যিকভাবে  বহু জমিতে গোলাপের চাষ হচ্ছে । চাষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।  অর্থনীতিতে গোলাপ গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে । 




    গোলাপ চাষ পদ্ধতি

    গোলাপ চাষ পদ্ধতি



    জাত পরিচিতি

    • গোলাপের অসংখ্য জাত রয়েছে ।কোনটির গাছ বড় ,কোনটি ঝোপালো ,কোনটি লতানো ।
    • জাত অনুযায়ী গোলাপ সাদা, লাল ,হলুদ ,কমলা ,গোলাপি ও মিশ্র রঙের হয়ে থাকে । 
    • এ ছাড়াও রানী এরিজাবেথ , ব্লাক প্রিন্স ,এরানি , মিরিন্ডা , দুই রঙা  ফুল আইক্যাচার  চাষ করা হয় ।

    চারা তৈরি 


    • গোলাপের বংশবিস্তারের জন্য শাখা কলম, দাবা কলম, গুটি  কলম  ও চোখ কলম   পদ্ধতিতে চারা তৈরি করা হয় ।
    • নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য  বীজ উৎপাদন করে  তা থেকে চারা তৈরি করা হয় ।

    জমি নির্বাচন 


    • উর্বর দোআঁশ  মাটির জমি  গোলাপ চাষের জন্য উত্তম  । 
    • ছায়াবিহীন  উচু জায়গা যেখানে  জলবদ্ধতা হয় না , এরুপ জমিতে গোলাপ  ভালো জন্মে । 


    জমি তৈরি 


    • জমি ৪-৫ টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা ও সমতল করতে হবে ।
    • এরপর মাটি উচু করে ৩ মি *১ মি আকারের বেড তৈরি করতে হবে । ৎ
    • এরপর ৬০ সেমি * ৬০ সেমি আকারের াবেং ৪৫ সেমি গভরি গর্ত খনন করতে হবে ।
    • ১৫  দিন পরে চারা রোপন করতে হবে । 


    গোলাপ চাষ পদ্ধতি

    গোলাপ



     

    সার প্রয়োগ 

    সারের নাম         

    পরিমান শতক প্রতি         

    প্রয়োগ সময় 

    কাঁচা গোবর

    ২০ কেজি 

    জমি তৈরির সময় 

    জৈব সার 

     ৬ কেজি 

    জমি তৈরির সময় 

    টিএসপি 

    ৫০০ গ্রাম 

    জমি তৈরির সময় 

    এমওপি 

    ২০০ গ্রাম 

    জমি তৈরির সময় 

    ইউরিয়া

     ১ কেজি 

    চারা লাগানোর ২০ থেকে ২৫ দিন পর

    ইউরিয়া

    ১৫০ গ্রাম 

    কুঁড়ি বের হওয়ার পূর্বে

    দস্তা  

    ১২০ গ্রাম  

    জমি তৈরির সময় 

    খৈল 

    ১.৫ কেজি  

    জমি তৈরির সময় 



    • ছকে প্রদত্ত সার গুলো গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলতে হবে ।
    • বর্ষাকালে  যাতে  গাছের গোড়ায় পানি না জমে সে দিক খেয়াল রাখতে হবে ।
    •  সার প্রয়োগের ১০-১৫ দিন পর  গাছ লাগানোর উপযুক্ত হবে । 

    চারা বা কলম রোপন 


    • আশ্বিন মাস চারা রোপনের উপযুক্ত সময় ।তবে  পৌষ মাস পর্যন্ত চারা লাগানো যেতে পারে ।
    • প্রথমে  পলিথিন ব্যাগ বা টব থেকে চারা বের করে দুর্বল  শাখা ,রোগাক্রান্ত শিকড় ইত্যাদি কেটে ফেলতে হয় ।
    • চারা লাগিয়ে  গোড়ায় শক্ত ভাবে মাটি চেপে দিতে হবে । 
    • চারা রোপন করে চারাটি একটি খুটি পুতে  খুটির সাথে বেঁধে দিতে হবে । 
    • চারা লাগিয়ে গোড়ায় পানি দেওয়া উচিৎ। 
    • ২-৩ দিন ছায়ার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। 

    পরিচর্যা 


    ১. আগাছা দমন 


    • গোলাপের কেয়ারিতে অনেক আগাছা জন্মে ।
    • আগাছা তুলে ফেলতে হবে । 

    ২. পানি সেচ 


    • মাটির আদ্রতা যাচাই করে গাছের গোড়ায় এমন ভাবে সেচ দিতে হবে যাতে  মাটিতে রসের অভাব না হয় । 

    ৩. পানি নিকাশ 


    • গোলাপের বেডে কখনো পানি জমতে দেয়া যাবে না ।
    •  কারন গোলাপ গাছ জলবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না । 

    ৪. ডাল পালা ছাটাই 


    • গোলাপের নতুন ডালে বেশি ফুল হয় । তাই পুরাতন ও রোগাক্রান্ত ডারপালা ছাটিই করা প্রয়োজন ।
    •  প্রতি বছর গোলাপের ডালপালা ছাটাই করলে গাছের গঠন কাঠামো সুন্দর ও সুদৃঢ় হয় । 

    ৫. ফুলের কুড়ি ছাটাই 


    • অনেক সময়  ছাটাই করার পর মূল গাছের ডালে অনেক কুড়ি জন্মে ।
    • সব গুলো কুড়ি ফুটতে দিলে ফুল তেমন একটা বড় হয় না । 
    • তাই মাঝের কুড়ি রেখে পামের কুড়ি কেটে দিতে হবে । 

    পোকা মাকড় ব্যবস্থা 


    ১. রেড স্কেল 


    • এ পোকা  দেকতে অনেকটা মরা চামড়ার মত ।
    • গরমের সময় বর্ষাকালে এর আক্রমন বেশি পরিলক্ষিত হয় । 
    • এ পোক গাছের বাকলের রস চুসে খায় । 
    • ফলে বাকলে ছোট ছোট কালো দাগ পড়ে । 
    • প্রতিকার না করলে আক্রান্ত গাছ মারা যায়  । 
    • ম্যালাথিয়ন বা ডায়াজিনন জাতীয় কীটনাশক প্রয়োগ করে এ পোকা দমন করা য়ায়  । 

    ২. বিটল পোকা 


    • শীত কালের শেষে এ পোকার আক্রমন পরিরক্ষিত হয় । 
    • এ পোকা গাছের কচি পাতা  ও ফুলের পাপড়ি  ছিদ্র করে খায় ।
    • সাধারনত রাতের বেলা আক্রমন করে । 
    • আলোর ফাদ পেতে এ পোকা দমন করা যায় ।
    • ম্যালাথিয়ন জাতীয় কীটনাশক ছিটিয়ে  এ পোকা দমন করা যায় । 

    রোগ ব্যবস্থাপনা 


    ১. কালো দাগ পড়া রোগ 


    • এটি একটি ছত্রাক জনিত রোগ ।
    • আক্রান্ত গাছের পাতায় গোলাকার কালো দাগ পড়ে । 
    • আক্রান্ত গাছের পাতা ঝরে গিয়ে ঘাছ পত্র শুন্য হযে পড়ে । 
    • এ রোগের প্রতিকারের জন্য গাছে সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে । 
    • এ ছাড়া ছত্রাক নাশক প্রয়োগ করে  এ রোগ দমন করা যায় । 

    ২. ডাইব্যাক 


    • ডার ছাটাইয়ের কাটা স্থানে  এ রোগ আক্রমন করে ।
    • এ রোগ হলে গাছের ডার মাথা থেকে কালো হয়ে  নিচের দিকে মরতে থাকে । 
    • তাই ডাল ছাটাইয়ের চাকু জীবানুনাশক দিয়ে মুছে ডাল ছাটাই করা উচিৎ ।
    • কর্তিত স্থান স্পিরিট দিয়ে মুছে দিতে হবে ।

    ৩. পাউডারি মিলডিউ 


    • এটি একটি ছত্রাক জনিত রোগ ।
    • শীত কালে কুয়াশার সময় এ রোগের বিস্তার ঘটে ।
    • এ রোগে আক্রান্ত হলে  পাতা কচি ফুল ও কলিতে সাদা পাউডার দেখা যায় । 
    • এ রোগ দমন করতে হলে আক্রান্ত ডগা বা পাতা তুলে পুড়ে ফেলতে হবে । 
    • অথবা থিওভিট বা সালফার ডাইথেন এম- ৪৫ যে কোন একটি পানিতে মিশিয়ে সপ্তাহে েএকবার স্প্রে করতে হবে



    গোলাপ চাষ পদ্ধতি


    ফুল সংগ্রহ 


    • ফুল ফোটার পূর্বেই  গাছ হতে ফুল সংগ্রহ করতে হয় ।
    • সংগ্রহের পর ফুরের ডাটার নিচের অংশ পরিস্কার পানিতে ডুবিয়ে  ঠান্ডা জায়গায় রাখলে ফুল ভালো থাকে । মাঝে মাঝে  ফুলে পানির ছিটা দেওয়া ভালো ।

    ফলন 

    • আদর্শ উৎপাদন পরিবেশে গাছ প্রতি  ১৫- ৩০ ফুল উৎপাদন করা যায় । 
    • বছরে একর প্রতি ৩৭০৫০০-৪৯৪০০০ টি ফুল উৎপাদন সম্ভব।


    সম্মানিত পাঠক অনেক অনেক ধন্যবাদ । আমাদের সাথেই থাকুন এবং কমেন্ট করে জানিয়ে দিন আপনার অনুভূতি । আমি তানবিরুল ইসলাম আছি আপননাদের সাথে ।

    কোন মন্তব্য নেই:

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    যোগাযোগ ফর্ম

    নাম

    ইমেল *

    বার্তা *

    নওরোজ ।বাংলা নিউজ পেপার।

    নওরোজ হলো একটি প্রফেশনাল অনলাইন প্লাটফরম।এখানে আমরা শুধুমাত্র সেই সব জিনিস প্রদান করবো যেটা আপনি পছন্দ করেন।আমরা আপনাকে চাকরি ধর্ম বাণিজ্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনোদন মুক্তকথা রাজনীতি লাইফস্টাইল শিক্ষা শিল্প ও সাহিত্য সর্বশেষ এর ওপর নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদানে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।আমরা নওরোজ এর প্রতি আমাদের আবেগকে একটি ক্রমবর্ধমান অনলাইন ওয়েবসাইট এ পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছি।
    সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃতানবিরুল ইসলাম
    ইমেইল: mtitanbir2003@gmail.com
    ঠিকানা: বুকাবুনিয়া, বামনা-৮৭৩০