গোলাপকে ফুলের রানী বলা হয় । বাংলাদেশে বানিজ্যিকভাবে বহু জমিতে গোলাপের চাষ হচ্ছে । চাষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । অর্থনীতিতে গোলাপ গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে ।
![]() |
গোলাপ চাষ পদ্ধতি |
জাত পরিচিতি
- গোলাপের অসংখ্য জাত রয়েছে ।কোনটির গাছ বড় ,কোনটি ঝোপালো ,কোনটি লতানো ।
- জাত অনুযায়ী গোলাপ সাদা, লাল ,হলুদ ,কমলা ,গোলাপি ও মিশ্র রঙের হয়ে থাকে ।
- এ ছাড়াও রানী এরিজাবেথ , ব্লাক প্রিন্স ,এরানি , মিরিন্ডা , দুই রঙা ফুল আইক্যাচার চাষ করা হয় ।
চারা তৈরি
- গোলাপের বংশবিস্তারের জন্য শাখা কলম, দাবা কলম, গুটি কলম ও চোখ কলম পদ্ধতিতে চারা তৈরি করা হয় ।
- নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য বীজ উৎপাদন করে তা থেকে চারা তৈরি করা হয় ।
জমি নির্বাচন
- উর্বর দোআঁশ মাটির জমি গোলাপ চাষের জন্য উত্তম ।
- ছায়াবিহীন উচু জায়গা যেখানে জলবদ্ধতা হয় না , এরুপ জমিতে গোলাপ ভালো জন্মে ।
জমি তৈরি
- জমি ৪-৫ টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা ও সমতল করতে হবে ।
- এরপর মাটি উচু করে ৩ মি *১ মি আকারের বেড তৈরি করতে হবে । ৎ
- এরপর ৬০ সেমি * ৬০ সেমি আকারের াবেং ৪৫ সেমি গভরি গর্ত খনন করতে হবে ।
- ১৫ দিন পরে চারা রোপন করতে হবে ।
সার প্রয়োগ | ||
সারের নাম | পরিমান শতক প্রতি | প্রয়োগ সময় |
|---|---|---|
কাঁচা গোবর | ২০ কেজি | জমি তৈরির সময় |
জৈব সার | ৬ কেজি | জমি তৈরির সময় |
টিএসপি | ৫০০ গ্রাম | জমি তৈরির সময় |
এমওপি | ২০০ গ্রাম | জমি তৈরির সময় |
ইউরিয়া | ১ কেজি | চারা লাগানোর ২০ থেকে ২৫ দিন পর |
ইউরিয়া | ১৫০ গ্রাম | কুঁড়ি বের হওয়ার পূর্বে |
দস্তা | ১২০ গ্রাম | জমি তৈরির সময় |
খৈল | ১.৫ কেজি | জমি তৈরির সময় |
- ছকে প্রদত্ত সার গুলো গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলতে হবে ।
- বর্ষাকালে যাতে গাছের গোড়ায় পানি না জমে সে দিক খেয়াল রাখতে হবে ।
- সার প্রয়োগের ১০-১৫ দিন পর গাছ লাগানোর উপযুক্ত হবে ।
চারা বা কলম রোপন
- আশ্বিন মাস চারা রোপনের উপযুক্ত সময় ।তবে পৌষ মাস পর্যন্ত চারা লাগানো যেতে পারে ।
- প্রথমে পলিথিন ব্যাগ বা টব থেকে চারা বের করে দুর্বল শাখা ,রোগাক্রান্ত শিকড় ইত্যাদি কেটে ফেলতে হয় ।
- চারা লাগিয়ে গোড়ায় শক্ত ভাবে মাটি চেপে দিতে হবে ।
- চারা রোপন করে চারাটি একটি খুটি পুতে খুটির সাথে বেঁধে দিতে হবে ।
- চারা লাগিয়ে গোড়ায় পানি দেওয়া উচিৎ।
- ২-৩ দিন ছায়ার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।
পরিচর্যা
১. আগাছা দমন
- গোলাপের কেয়ারিতে অনেক আগাছা জন্মে ।
- আগাছা তুলে ফেলতে হবে ।
২. পানি সেচ
- মাটির আদ্রতা যাচাই করে গাছের গোড়ায় এমন ভাবে সেচ দিতে হবে যাতে মাটিতে রসের অভাব না হয় ।
৩. পানি নিকাশ
- গোলাপের বেডে কখনো পানি জমতে দেয়া যাবে না ।
- কারন গোলাপ গাছ জলবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না ।
৪. ডাল পালা ছাটাই
- গোলাপের নতুন ডালে বেশি ফুল হয় । তাই পুরাতন ও রোগাক্রান্ত ডারপালা ছাটিই করা প্রয়োজন ।
- প্রতি বছর গোলাপের ডালপালা ছাটাই করলে গাছের গঠন কাঠামো সুন্দর ও সুদৃঢ় হয় ।
৫. ফুলের কুড়ি ছাটাই
- অনেক সময় ছাটাই করার পর মূল গাছের ডালে অনেক কুড়ি জন্মে ।
- সব গুলো কুড়ি ফুটতে দিলে ফুল তেমন একটা বড় হয় না ।
- তাই মাঝের কুড়ি রেখে পামের কুড়ি কেটে দিতে হবে ।
পোকা মাকড় ব্যবস্থা
১. রেড স্কেল
- এ পোকা দেকতে অনেকটা মরা চামড়ার মত ।
- গরমের সময় বর্ষাকালে এর আক্রমন বেশি পরিলক্ষিত হয় ।
- এ পোক গাছের বাকলের রস চুসে খায় ।
- ফলে বাকলে ছোট ছোট কালো দাগ পড়ে ।
- প্রতিকার না করলে আক্রান্ত গাছ মারা যায় ।
- ম্যালাথিয়ন বা ডায়াজিনন জাতীয় কীটনাশক প্রয়োগ করে এ পোকা দমন করা য়ায় ।
২. বিটল পোকা
- শীত কালের শেষে এ পোকার আক্রমন পরিরক্ষিত হয় ।
- এ পোকা গাছের কচি পাতা ও ফুলের পাপড়ি ছিদ্র করে খায় ।
- সাধারনত রাতের বেলা আক্রমন করে ।
- আলোর ফাদ পেতে এ পোকা দমন করা যায় ।
- ম্যালাথিয়ন জাতীয় কীটনাশক ছিটিয়ে এ পোকা দমন করা যায় ।
রোগ ব্যবস্থাপনা
১. কালো দাগ পড়া রোগ
- এটি একটি ছত্রাক জনিত রোগ ।
- আক্রান্ত গাছের পাতায় গোলাকার কালো দাগ পড়ে ।
- আক্রান্ত গাছের পাতা ঝরে গিয়ে ঘাছ পত্র শুন্য হযে পড়ে ।
- এ রোগের প্রতিকারের জন্য গাছে সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে ।
- এ ছাড়া ছত্রাক নাশক প্রয়োগ করে এ রোগ দমন করা যায় ।
২. ডাইব্যাক
- ডার ছাটাইয়ের কাটা স্থানে এ রোগ আক্রমন করে ।
- এ রোগ হলে গাছের ডার মাথা থেকে কালো হয়ে নিচের দিকে মরতে থাকে ।
- তাই ডাল ছাটাইয়ের চাকু জীবানুনাশক দিয়ে মুছে ডাল ছাটাই করা উচিৎ ।
- কর্তিত স্থান স্পিরিট দিয়ে মুছে দিতে হবে ।
৩. পাউডারি মিলডিউ
ফুল সংগ্রহ
- ফুল ফোটার পূর্বেই গাছ হতে ফুল সংগ্রহ করতে হয় ।
- সংগ্রহের পর ফুরের ডাটার নিচের অংশ পরিস্কার পানিতে ডুবিয়ে ঠান্ডা জায়গায় রাখলে ফুল ভালো থাকে । মাঝে মাঝে ফুলে পানির ছিটা দেওয়া ভালো ।
ফলন
- আদর্শ উৎপাদন পরিবেশে গাছ প্রতি ১৫- ৩০ ফুল উৎপাদন করা যায় ।
- বছরে একর প্রতি ৩৭০৫০০-৪৯৪০০০ টি ফুল উৎপাদন সম্ভব।
সম্মানিত পাঠক অনেক অনেক ধন্যবাদ । আমাদের সাথেই থাকুন এবং কমেন্ট করে জানিয়ে দিন আপনার অনুভূতি । আমি তানবিরুল ইসলাম আছি আপননাদের সাথে ।

.jpg)
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন