ডেঙ্গু এক ধরনের জ্বরজাতীয় রোগ । যা মাঝে মাঝে মৃত্যূর কারন হয়ে দ্বারায় । ডেঙ্গু থেকে রেহাই পেতে ডেঙ্গু সম্পর্কে জানা প্রয়েজন ।
ডেঙ্গু কি
- ডেঙ্গু এক ধরনের ভাইরাস জনিত রোগ ।
- ভাইরাসের নাম ডেঙ্গু ভাইরাস বা DENV ।
.jpg) |
ডেঙ্গু জ্বর |
- চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস রয়েছে । DEVN-1 ,DENV-2, DENV-3,DENV-4 ।
- বর্তমানে ১০০টির বেশি দেশে ডেঙ্গু দেখা যায় ।
যেভাবে ছড়ায়
- স্ত্রী এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে ।
- ডেঙ্গু জ্বরের জীবানুবাহী মশা কামড়ালে , সেই ব্যক্তি ৪-১০ দিনের ভিতরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ।
- আক্রান্ত ব্যক্তিকে জীবানুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে বাকি জীবনের জন্য মশাটি জীবানুবাহী মশায় পরিনত হয় ।
- আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করলে সুস্থ ব্যক্তিও আক্রান্ত হতে পারে ।
- আক্রান্ত মায়ের থেকে শিশুর দেহে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে ।
এডিস মশা
.jpg) |
এডিস মশা |
আকারে মাঝারি আকৃতির ।
- দেহে সাদা কালো ডোরাকাটা দাগ ।
- ডোরাকাটা দাগ ও অ্যান্টেনা দেখে এডিস মশা চেনা সম্ভব ।
- এদেরকে টাইগার মশাও বলা হয় ।
- অ্যান্টেনা কিছুটা লোমশ দেখতে হয় ।
- পুরুষ এডিস ডেঙ্গু ছড়ায় না ।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষনসমূহ
.jpg) |
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষন , পরিচর্যা ও চিকিৎসা.
|
১. সাধারন
- উচ্চমাত্রার জ্বর ।
- তীব্র মাথাব্যাথা ।
- চোখের পেছনে ব্যাথা ।
- মাংশপেশি এবং অস্থিসন্ধিতে ব্যথা ।
- বমি -বমি ভাব ।
- বিভিন্ন গ্রন্থি ফূলে যাওয়া ।
- লালছে ফুসকুড়ি দেখা দেয়া।
২. গুরুতর
- অসুস্থতার ৩-৭ দিন পর জ্বর যখন পড়তে শুরু করে । ডেঙ্গু রোগি সঙ্কটপূর্ন অবস্থায় প্রবেশ করে । অনেকে এ পর্যায় আরোগ্য লাভ করে । তবে মোট ডেঙ্গু রোগির ৫% এ সময় গুরুতর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় ।
- এ সময় তীব্র পেট ব্যথা ।
- ক্রমাগত বমি হওয়া ।
- স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস ।
- নাক বা দাতের মাড়ি থেকে রক্ত ক্ষরন ।
- ক্লান্তি বা অবসাদ ।
- অস্তিরতা/রক্ত বমি ।
- পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া ।
৩. হেমোরেজিক ফিভার (DHF)
- এটা ডেঙ্গুর একটি জটিল অবস্থা ।
- অন্যান্য উপসর্গের পাশাপাশি রক্তক্ষরন কিংবা প্লাজমা লিকেজের লক্ষন দেখা দেয় তখন ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলা হয় ।
- যথাযথ চিকিৎসা না নিলে এটা ডেঙ্গু শক সিনড্রমে মোর নিতে পারে ।
ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (DSS)
- ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ রুপ হলো শক সিনড্রোম ।
- রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া ।
- নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীন ও দ্রুত হওয়া ।
- শরীর হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ।
- প্রস্রাব কমে যাওয়া ।
- হঠাৎ করে রোগি জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে ।
প্রয়োজনিয় পরীক্ষা
- ডেঙ্গু জ্বর নিশ্চিত হওয়ার জন্য NSI পরীক্ষা করা হয় অ
- জ্বর শুরুর ৩ দিন পর NSI ও IgM কিংবা শুধু IgM নামক অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয় ।
- রক্তের অবস্থা দেখার জন্য CBC পরীক্ষা করা হয় ।
- এছাড়াও সার্বিক অবস্থা বুঝে চিকিৎসক অন্যান্য পরীক্ষা দিয়ে থাকেন ।
চিকিৎসা
- ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই ।
- সাধারনত নিজ থেকেই জ্বর ভালো হয়ে যায় ।
- জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল যথেষ্ট ।
- রোগিকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে ।
- বিশেষ করে জ্বর কমতে শুরু করলে রোগিকে গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করা লাগবে ।
- গুরুতর ডেঙ্গুর লক্ষন দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের শরাণাপন্ন হতে হবে ।
রোগির পরিচর্যা
- সম্পূর্ন ভালো না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকবে ।
- প্রচুর ভিটামিন এ ও সি সমৃদ্ধ ফল যেমন মাল্টা, কমলা ,পেঁপে, লেবু ইত্যাদি খেতে হবে ।
- পানি শরবত ও ডাবের পানি যথেষ্ট পরিমানে পান করতে হবে ।
- রোগি খেতে না পারলে দরকার হলে শিরাপথে স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে ।
- ভেজা কাপড় দিয়ে গা মোছাতে হবে ।
- খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত আমিষ থাকতে হবে ।
- শিশুদের খাবারের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে ।
এই ফিচারটি সংগ্রহ করে লেখা । আরো নতুন নতুন পোস্ট নিয়ে আমি তানবিরুল ইসলাম থাকবো আপনাদের সাথে । অবশ্যই একটা শেয়ার দিয়ে ,কমেন্টে জানিয়ে দিন আপনার মতামত । ধন্যবাদ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন