বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২২

বিস্তারিত করলার উপকারিতা ও অপকারিতা নওরোজ কৃষি তথ্য ভান্ডার।

স্বাদে তেতো  কিন্তু অনেকের প্রিয় সবজি করলা । করলা একটি পুষ্টিকর খাদ্য । গরম ভাতের সঙ্গে চিংড়ি সহোযোগে আলু করলা  ভাজি হলে যেন আর কিছু লাগে না । অনেকে আবার তেতো স্বাদের ভয়ে করলা থেকে দূরেও থাকে । পুষ্টিবিদরা সবসময় করলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ।




করলার উপকারিতা ও অপকারিতা
করলার উপকারিতা ও অপকারিতা


করলা পরিচিতি

করলা( করল্লা , উচ্ছা , উচ্ছে ) ফল জাতীয় সবজি । ইংরেজিতে balsam pear ,bitter gourd, bitter melon ইত্যাদি বলা হয় । বৈজ্ঞানিক নাম Momordica charantia । করলা কিউকার্বিটেসি পরিবারের সদস্য । এক  প্রকার লতা জাতীয় উদ্ভিদ। আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ ।

তেতো স্বাদ যুক্ত ফল এবং শরীর কাটার মত ওয়ার্টে ভরা । পরিনত ফল লম্বাটে ,কাঁচা অবস্থায় রঙ সবুজ পাকলে লাল বা কমলা রঙ ধারন করে । দৈর্ঘ  ১২-২৫ সেমি, প্রস্থ ৫-৭ সেমি ।


করলার পুষ্টি গুন


    ১০০ গ্রাম করলায় পুষ্টি উপাদানের পরিমান

    উপাদান 

    পরিমান 

    কার্বোহাইড্রেট ৩.৭০ গ্রাম 
    প্রোটিন১.০০গ্রাম
    ফ্যাট০.১৭ গ্রাম
    খাদ্য আঁশ ২.৮০ গ্রাম
    নায়াসিন ০.৪০০ মিলিগ্রাম 
    প্যান্টোথেনিক এসিড ০.২১২ মিলিগ্রাম 
    ভিটামিন এ৪৭১ আই ইউ 
    ভিটামিন সি ৮৪ মিলিগ্রাম 
    সোডিয়াম ৫ মিলিগ্রাম 
    পটাশিয়াম ২৯৬ মিলিগ্রাম
    ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম 
    কপার ০.০৩৪ মিলিগ্রাম 
    আয়রন০.৪৩ মিলিগ্রাম 
    ম্যাগনেসিয়াম ১৭ মিলিগ্রাম 
    ম্যাঙ্গানিজ০.০৮৯ মিলিগ্রাম 
    জিংক ০.৮০ মিলিগ্রাম 



    বিস্তারিত করলার উপকারিতা ও অপকারিতা
    করলা


    করলার উপকারিতা 



    ১. শ্বাসরোগ প্রতিরোধে করলা


    যাদের অ্যাজমা সমস্যা রয়েছে ,নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়  তারা পানির সাথে মধু ও করলার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে আপনার শরীরে এন্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি হবে  যা  অ্যাজমা, শ্বাসরোগ ও গলার প্রদাহ ইত্যাদি সমস্যা দূর করতে কার্যকর ভুমিকা রাখে ।করলার রস এলার্জী সমস্যা দূর করে ।

    ২.বার্ধক্য ঠেকাতে করলা 

    শরীরে তারুন্য ধরে রাখতে নিয়মিত করলার জুস খেতে পারেন ।করলার জুসে এন্টি ব্যকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে যা শরীরে অতিরিক্ত মেদ বাড়াতে বাধা প্রদান করে । এছাড়া এতে থাকা প্রচুর পরিমান ভিটামিন এ , সি , লৌহ ,আশ  এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট। ফলে   দীর্ঘ দিন  আপনাকে বার্ধক্য  থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করবে।

    ৩.সুগার নিয়ন্ত্রন রাখতে করলা 

    যাদের রক্তে চিনির পরিমান বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেছেন  তারা   প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কাঁচা করলার জুস খেতে পারেন। ডায়াবেটিসে ভালো উপকার  পাওয়া যায় ।করলার জুস সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রন রাখতে সাহায্য করে ।করলার মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে সুগার নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখতে সাহায্য করে ।


    ৪. ক্যানসার প্রতিরোধ করতে করলা

     করলায় রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধকারী  লাইকোপিন। বিজ্ঞানপত্রিকা  ‘কারসিনোজেনেসিস’ এর রিপোর্ট বলছে , করলার  জুস অগ্নশয়ের ক্যান্সার রোধ করে । ক্যান্সার  সৃষ্টিকারী  কোষগুলো  নির্মূল করে । বিজ্ঞান পত্রিকা পাবমেড এর তথ্য অনুযায়ী স্তন ক্যান্সার রোধে করলার জুসের গুরূত্ব রয়েছে ।গবেষনা  অনুসারে ,করলা উদ্ভিজ নির্জাস ব্যবহার করে 


    ৫. হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে করলা

    করলা রক্তের চর্বি কমায় আর বাড়ায় ভালো কোলেষ্টেরল  এইচডিএল । এতে নিয়ন্তর করে রক্তচাপ ।বিশেষজ্ঞরা বলেছেন , প্রতিদিন  করলা গ্রহনে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রন সহজ হয় এবং প্রতিরোধ হয় রক্তনালিতে চর্বি জমার কারনে  হার্ট অ্যাটাকের প্রবনতা ।
     

    ৬.হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে করলা 

    করলার গুরুত্বপূর্ণ গুন হচ্ছে েএটি হজমের জন্য উপকারি ।প্রতিদিন সকালে খালি পেটে করলার জুস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় ।পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দূর করতে নিয়মিত খেতে পারেন করলার জুস।


    ৭.রক্ত শূন্যতা দূর করতে করলা 

    আমাদের সুস্থ ভাবে  বাঁচতে  প্রয়োজন পরিশুদ্ধ রক্ত। করলায় উপস্থিত ব্লাড পিউরিফাইং  এজেন্ট  রক্তকে পরিশুদ্ধ রাখে ।করলা রক্ত শুন্যতা পূরনে সাহায্য করে   রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে । এছাড়া করলায় রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন ও লৌহ ।

    ৮. লিভার কার্যক্ষমতা বাড়ায় করলা

    করলা লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।গবেষনায় দেখা গেছে নিয়মিত করলা খেলে শরীরে এনজাইমের মাত্রা বৃদ্ধি পায়  ফলে লিভারের কার্যক্ষমতা বেরে যায় । 

     

    ৯.বাতের ব্যাথা দুর করতে করলা


    প্রতিদিন সকাল বিকাল ৩ চা চামচ উচ্ছে পাতার রস একটু গরম করে  তাতে পানি মিশিয়ে খেলে বাত ব্যাথায় উপকার পাওয়া যায় ।

    ১০. ত্বকের যত্ন নিতে করলা 

    অপূর্ব সুন্দর হতে চাইলে  ডায়েটে করলা অন্তর্ভূক্ত করতে ভুলবেন না ।কারন এই  সবজিটির ভেতর  উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি , শরীরের প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায়  যে বলিরেখা গায়েব হতে শুরু করে । সেই সঙ্গে ত্বক টানটান  হয়ে ওঠে । ফলে স্কিনের সৌন্দর্য  বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না ।

    ১১.রুচি বৃদ্ধি করে করলা 

    আমাদের অনেক সময় খাবারে অরুচি দেখা দেয় । এবার খাবারে অরুচি দেকা দিলে রয়েছে চমৎকার সমাধান ।এ ক্ষেত্রে এক চা চামচ করলার রস  সকাল বিকাল খেলে  খাবারে রুচি বাড়বে ।



    ১২. ওজন কমাতে করলা 


    শরীরের ওজনের কারনে চিন্তায় আছেন ?তাহলে আজ থেকে করলার রস খেতে শুরু করেন । অল্প  দিনেই ওজন নিয়ন্ত্রনে  চলে আসবে । করলার রস হজম ক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটায় । হজম যদি ঠিক মত হতে থাকে , তাহলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমার সুযোগই পায় না , ফলে ওজন কমতে থাকে ।



    করলার অপকারিতা 


    করলার উপকারিতার পাশাপাশি কিছু অপকারিতাও রয়েছে।
    • করলা শিশুদের ক্ষেত্রে সমস্যার কারন হতে পারে ।শিশুরা করলা খেলে পেটে রোগ সৃষ্টি হতে পারে ।
    • বেশি পরিমানে করলা খেলে লিভারে প্রদাহ হতে পারে ।
    • করলা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে । কিন্তু ডায়াবেটিসের ঔষধ চলাকালে হীতে বিপরীত হতে পারে । েএতে ডায়াবেটিস নীল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
    • গর্ভবতী নারদের অধিক পরিমানে করলা খাওয়া উচিৎ নয় । কারন িএতে গর্ভপাতের ঝুকি থাকে ।
    • বাচ্চারা বেশি পরিমানে করলা খেলে হার্টবিটের স্বাভাবিক চলাচলকে অনিয়মিত করে দিতে পারে ।

    বিস্তারিত করলার উপকারিতা ও অপকারিতা
    করলা


    করলার জুস যেভাবে বানাবেন 


    করলা ভালো ভাবে ধুয়ে নিয়ে ছোট পিস করে কেটে নিন ।তেতো খেতে যদি সমস্যা হয় তবে ব্রেন্ডারে করলার সাথে ান্যান্র সবজি দিয়ে মিশ্রন তৈরি করুন । স্বাদ বাড়ানোর জন্য কয়েক ফোটিা মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খাবেন।

    প্রিয় পাঠক শেষ পর্যন্ত  পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ । ফিচারটি কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ।এই রকম আরো পোষ্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।





    1 টি মন্তব্য:

    যোগাযোগ ফর্ম

    নাম

    ইমেল *

    বার্তা *

    নওরোজ ।বাংলা নিউজ পেপার।

    নওরোজ হলো একটি প্রফেশনাল অনলাইন প্লাটফরম।এখানে আমরা শুধুমাত্র সেই সব জিনিস প্রদান করবো যেটা আপনি পছন্দ করেন।আমরা আপনাকে চাকরি ধর্ম বাণিজ্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনোদন মুক্তকথা রাজনীতি লাইফস্টাইল শিক্ষা শিল্প ও সাহিত্য সর্বশেষ এর ওপর নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদানে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।আমরা নওরোজ এর প্রতি আমাদের আবেগকে একটি ক্রমবর্ধমান অনলাইন ওয়েবসাইট এ পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছি।
    সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃতানবিরুল ইসলাম
    ইমেইল: mtitanbir2003@gmail.com
    ঠিকানা: বুকাবুনিয়া, বামনা-৮৭৩০